প্রস্তাবনা
যে ডায়েরি কখনও লেখা হয়নি
রাত তখন ৩টা ১৩ মিনিট।
বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। পুরোনো বাড়িটার জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা এসে পড়ছিল একটানা, যেন কেউ অন্ধকারের ওপার থেকে দরজায় কড়া নাড়ছে।
ইরা ঘুমিয়ে ছিল।
অন্তত, সে ভেবেছিল সে ঘুমিয়ে আছে।
হঠাৎ তার মনে হলো, কেউ তার নাম ধরে ডাকছে।
ইরা…”
কণ্ঠটা খুব পরিচিত। এতটাই পরিচিত যে, ঘুমের মধ্যেও তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
সে চোখ খুলল।
ঘরের দরজা বন্ধ। জানালা বন্ধ। টেবিলের ওপর রাখা ঘড়িটা থেমে আছে ৩টা ১৩ মিনিটে।
কিন্তু ডাকটা আবার শোনা গেল।
“ইরা, সময় শেষ হয়ে আসছে।”
এবার সে উঠে বসল।
ঘরের এক কোণে রাখা পুরোনো কাঠের আলমারিটা খোলা। অথচ ঘুমোতে যাওয়ার আগে সে নিজেই সেটার দরজা বন্ধ করেছিল।
আলমারির ভেতর থেকে মেঝের ওপর পড়ে আছে একটা কালো মলাটের ডায়েরি।
ডায়েরিটা সে আগে কখনও দেখেনি।
কিন্তু মলাটের ওপর রুপালি কালিতে লেখা নামটা তার অচেনা নয়।
ইরা সেন।
প্রথম পাতায় লেখা—
“আজ আমার মৃত্যুর আগের শেষ রাত। আমি জানি, আগামীকাল সূর্য ওঠার আগেই আমার মৃত্যু হবে। কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় ভয় মৃত্যু নয়। আমার ভয়, মৃত্যুর পরেও আমি এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে পারব না।”
শেষ পাতায় লেখা—
“তুমি আবার ফিরে এসেছ। কিন্তু এবার তোমার হাতে সময় আছে মাত্র তেরো মিনিট।”
বাক্যটার নিচে স্বাক্ষর।
ইরা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারল না।
স্বাক্ষরটা তারই।
ঠিক তখনই ঘরের আয়নায় একটা ছায়া নড়ে উঠল।
আয়নার ভেতরের ইরা ঠোঁট নাড়ল।
“এবার সত্যিটা মনে করো।”
ঘড়িটা হঠাৎ চলতে শুরু করল।
৩টা ১৪ মিনিট।
আর ইরা প্রথমবার বুঝতে পারল
এই রাতটা হয়তো তার জীবনের শেষ রাত নয়।
হয়তো এই রাতটা এমন একটা জীবনের শেষ তেরো মিনিট, যেটা সে কোনোদিন বেঁচেছিল।