নদীর ধারের গ্রাম
ইছামতীর বাঁকে ছোট্ট একটা গ্রাম — নাম সোনাডাঙা। গ্রামের একদিকে ধানখেত, আরেকদিকে চওড়া নদী। সকালে নদীর জল রুপোর মতো ঝিকমিক করে, আর সন্ধ্যা নামলে আকাশ লাল-কমলা রঙে ভরে যায়।

এই গ্রামেই থাকে বারো বছরের রাজু। তার বাবা শহরে কাজ করেন, মা সারাদিন সংসার সামলান। আর রাজুর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ তার দাদু — হরিপদ মাঝি। চল্লিশ বছর ধরে দাদু খেয়া নৌকা চালিয়ে মানুষকে নদী পার করান।
দাদুর হারিকেন
দাদুর নৌকার গলুইয়ে সবসময় একটা পুরোনো হারিকেন ঝোলে। কাচটা একটু ঝাপসা, হাতলে জং ধরেছে, তবু রোজ সন্ধ্যায় দাদু যত্ন করে সলতে কেটে তেল ভরেন।
— দাদু, এত পুরোনো লণ্ঠন রাখো কেন? নতুন টর্চ তো কত সস্তা! — রাজু একদিন জিজ্ঞেস করে।
দাদু হেসে বলেন, — টর্চের আলো যায় সোজা এক দিকে, দাদুভাই। কিন্তু হারিকেনের আলো চারদিকে ছড়ায়। নদীর ওপার থেকে মানুষ এই আলো দেখে বোঝে, ঘাটে কেউ জেগে আছে। আলো শুধু পথ দেখায় না, ভরসাও দেয়।
আলো শুধু পথ দেখায় না, ভরসাও দেয়।
— হরিপদ মাঝি
রাজু কথাটা পুরো বোঝে না, কিন্তু মনে রেখে দেয়। বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে সে দাদুর সঙ্গে ঘাটে বসে। দাদু তাকে শেখান কীভাবে বৈঠা ধরতে হয়, কীভাবে স্রোতের টান বুঝতে হয়, আর কীভাবে আকাশের মেঘ দেখে ঝড়ের আভাস পাওয়া যায়।
- পশ্চিম আকাশে কালো মেঘ জমলে সাবধান।
- নদীর জল হঠাৎ ঘোলা হলে বুঝবে উজানে বৃষ্টি হচ্ছে।
- বাতাস থেমে গিয়ে চারদিক গুমোট হলে ঝড় আসতে দেরি নেই।
রাজু খাতায় সব লিখে রাখে। সে তখনও জানে না, খুব শিগগিরই এই শিক্ষাগুলো তার সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে।