←
অনলাইনে আয়Ch 2/11 · 5 min
Theme
Text size
Reading mode
অনলাইনে আয়1. অনলাইনে আয় — সত্যিটা আগে জানুন2. ফ্রিল্যান্সিং শুরু🔒 ইউটিউব ও শর্ট ভিডিও🔒 ব্লগ ও অ্যাফিলিয়েট🔒 ঘরে বসে অনলাইন দোকান — ValentiMart-এর মতো মার্কেটপ্লেসে বিক্রি🔒 হাতের কাজ ও স্থানীয় পণ্য অনলাইনে🔒 ডিজিটাল প্রোডাক্ট — ই-বুক ও কোর্স🔒 অনলাইন টিউশন🔒 স্থানীয় দোকানের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং সার্ভিস🔒 টাকা-পয়সার হিসাব — GST, ITR, ইউপিআই ও সঞ্চয়🔒 প্রতারণা চিনুন + ৯০ দিনের পরিকল্পনা

Log in to save highlights and notes.

Chapter 2

ফ্রিল্যান্সিং শুরু

ফ্রিল্যান্সিং মানে কোনো একটা অফিসের স্থায়ী কর্মী না হয়ে, বিভিন্ন ক্লায়েন্টের জন্য নির্দিষ্ট কাজ করে দেওয়া এবং কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক নেওয়া। একজন দর্জি যেমন বিভিন্ন খদ্দেরের জামা সেলাই করেন, ফ্রিল্যান্সার তেমনই বিভিন্ন ক্লায়েন্টের লোগো, ভিডিও, লেখা, ওয়েবসাইট বা হিসাবের কাজ করে দেন। ক্লায়েন্ট হতে পারেন পাড়ার কোচিং সেন্টার, শহরের কোনো স্টার্টআপ, কিংবা বিদেশের কোনো ছোট কোম্পানি। কাজ হয় অনলাইনে — ফাইল পাঠানো, মিটিং, পেমেন্ট সবই ইন্টারনেটে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা স্বাধীনতা — কখন কাজ করবেন, কোন কাজ নেবেন, কত দাম চাইবেন, সেটা আপনার হাতে। আবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জও এটাই — কেউ মাসের শেষে নিশ্চিত বেতন দেবে না, কাজ নিজেকেই খুঁজতে হবে, সময়মতো ডেলিভারি দিতে হবে, আর ক্লায়েন্টের সঙ্গে সম্পর্ক নিজেকেই সামলাতে হবে।

ঘরের এক কোণে ছোট একটা কাজের টেবিল — অনেক ফ্রিল্যান্সারের যাত্রা এখান থেকেই শুরু।
ঘরের এক কোণে ছোট একটা কাজের টেবিল — অনেক ফ্রিল্যান্সারের যাত্রা এখান থেকেই শুরু।

ধাপ ১: দক্ষতা বাছাই

প্রথম প্রশ্ন — আপনি কী কাজ বিক্রি করবেন? এমন একটা দক্ষতা বাছুন যেটা (ক) আপনি কিছুটা পারেন বা দ্রুত শিখতে পারবেন, (খ) যার বাজারে চাহিদা আছে, আর (গ) যেটা করতে আপনার বিরক্তি লাগে না। নিচে শুরু করার মতো কিছু জনপ্রিয় দক্ষতা:

একসঙ্গে পাঁচটা দক্ষতা নিয়ে ঝাঁপাবেন না। একটা বেছে নিন, তিন মাস তাতে মন দিন। ‘আমি সব পারি’ বলার চেয়ে ‘আমি ছোট ব্যবসার জন্য বাংলা-ইংরেজি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন করি’ বলা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য।

ধাপ ২: পোর্টফোলিও — আপনার কাজের দোকান-জানলা

ক্লায়েন্ট আপনার সার্টিফিকেট দেখার আগে আপনার কাজ দেখতে চাইবে। পোর্টফোলিও মানে আপনার সেরা কাজের নমুনার একটা সংগ্রহ। কিন্তু কাজই নেই, নমুনা আসবে কোথা থেকে? সমাধান সহজ — নিজেই বানান। ধরুন আপনি ডিজাইনার হতে চান। পাড়ার কাল্পনিক একটা মিষ্টির দোকানের জন্য পুজোর অফারের পোস্টার বানান, একটা কাল্পনিক ক্যাফের মেনু বানান। লেখক হলে নিজের পছন্দের বিষয়ে তিনটে ছোট লেখা লিখুন। ভিডিও এডিটর হলে নিজের তোলা ক্লিপ দিয়ে তিনটে রিল বানান।

পোর্টফোলিওতে ছয় থেকে আটটা ভালো কাজই যথেষ্ট; কুড়িটা মাঝারি কাজের চেয়ে ছয়টা ভালো কাজ বেশি কার্যকর। প্রতিটা নমুনার নিচে দু-লাইনে লিখুন — কার জন্য, কী সমস্যা ছিল, আপনি কী করলেন। সব নমুনা একটা গুগল ড্রাইভ ফোল্ডারে, বা ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্মের প্রোফাইলে, বা একটা সাধারণ পোর্টফোলিও পেজে রাখুন, যাতে একটা লিংক দিয়েই পুরোটা দেখানো যায়।

ধাপ ৩: প্রথম ক্লায়েন্ট খোঁজা

প্রথম ক্লায়েন্ট পাওয়াই সবচেয়ে কঠিন। দুটো রাস্তা আছে — বড় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস (যেখানে সারা বিশ্বের ক্লায়েন্ট কাজ পোস্ট করেন) আর নিজের চেনা পরিসর। নতুনদের জন্য দ্বিতীয়টা প্রায়ই সহজ। আপনার পাড়ার দোকান, আত্মীয়ের ব্যবসা, কলেজের সিনিয়র, স্থানীয় কোচিং সেন্টার — এঁদের অনেকেরই ডিজিটাল কাজের দরকার আছে, কিন্তু কাকে দিয়ে করাবেন জানেন না।

বড় মার্কেটপ্লেসে প্রতিযোগিতা বেশি, তাই প্রোফাইল হতে হবে পরিষ্কার — আসল ছবি, স্পষ্ট শিরোনাম (যেমন ‘বাংলা ও ইংরেজি কনটেন্ট রাইটার — প্রোডাক্ট বিবরণ ও ব্লগ’), আর পোর্টফোলিওর লিংক। কাজের প্রস্তাব (proposal) পাঠানোর সময় কপি-পেস্ট নয়, ক্লায়েন্টের পোস্ট মন দিয়ে পড়ে তাঁর নির্দিষ্ট সমস্যার কথা উল্লেখ করুন। একটা ভালো প্রস্তাবে থাকে: আপনি তাঁর সমস্যাটা বুঝেছেন, আপনি আগে এরকম কী করেছেন, কত দিনে আর কীভাবে করবেন।

মৌমিতার কথা ভাবুন। শিলিগুড়ির মেয়ে, ইংরেজিতে অনার্স। সে প্রথমে নিজের শহরের তিনটে হোমস্টের জন্য বিনামূল্যে ইংরেজি বিবরণ লিখে দিয়েছিল, বদলে চেয়েছিল একটা লিখিত মতামত (testimonial) আর তার নাম উল্লেখ করার অনুমতি। সেই তিনটে কাজ আর মতামত দিয়েই সে মার্কেটপ্লেসে প্রোফাইল সাজাল। প্রথম পেড কাজ পেতে প্রায় দেড় মাস লেগেছিল, কিন্তু পাঁচটা কাজ ভালোভাবে শেষ করার পর রিভিউ জমতে থাকায় নতুন কাজ পাওয়া সহজ হল।

ধাপ ৪: দাম ঠিক করা ও কাজের নিয়ম। নতুনরা প্রায়ই দুটো ভুল করেন — হয় খুব কম দাম চান, নয় অভিজ্ঞতা ছাড়াই খুব বেশি। একটা সহজ উপায়: আপনার কাজে মোট কত ঘণ্টা লাগবে আন্দাজ করুন (সংশোধন সহ), তারপর ঘণ্টায় কত পেলে আপনার পোষাবে সেটা দিয়ে গুণ করুন। বাজারে আপনার সমমানের লোকেরা কত নিচ্ছেন সেটাও দেখে নিন। শুরুতে বাজারের তুলনায় একটু কম রাখতে পারেন, কিন্তু প্রতি পাঁচ-ছয়টা সফল কাজের পর দাম পর্যালোচনা করুন।

একটা ব্যাপার প্রায়ই অবহেলা করা হয় — যোগাযোগ। ক্লায়েন্টের বার্তার উত্তর যতটা সম্ভব একই দিনে দিন, ভদ্র ও পরিষ্কার ভাষায়। কাজের মাঝপথে একবার ছোট আপডেট দিন — ‘ডিজাইনের প্রথম খসড়া তৈরি, কাল সন্ধ্যায় পাঠাচ্ছি।’ এতে ক্লায়েন্ট নিশ্চিন্ত থাকেন। কোনো নির্দেশ বুঝতে না পারলে আন্দাজে কাজ না করে প্রশ্ন করুন; ভুল কাজ আবার করার চেয়ে আগে একটা প্রশ্ন করা অনেক সহজ। আর প্রতিটা কাজের ফাইল, চ্যাট ও পেমেন্টের রসিদ গুছিয়ে রাখুন — পরে হিসাব আর কর জমার সময় কাজে লাগবে।

ক্লায়েন্ট একবার কাজের জন্য আসে, কিন্তু বারবার আসে ব্যবহারের জন্য।

৭ দিনের কাজ

  1. দিন ১: একটা দক্ষতা চূড়ান্ত করুন। এক লাইনে লিখুন — ‘আমি ___-দের জন্য ___ করি।’
  2. দিন ২: ওই দক্ষতার বিনামূল্যের একটা টিউটোরিয়াল বা কোর্স শুরু করুন, রোজ এক ঘণ্টা।
  3. দিন ৩ ও ৪: কাল্পনিক ক্লায়েন্টের জন্য তিনটে নমুনা কাজ বানান।
  4. দিন ৫: নমুনাগুলো একটা ফোল্ডারে গুছিয়ে প্রতিটার নিচে দু-লাইনের বিবরণ লিখুন।
  5. দিন ৬: পরিচিত পাঁচজন ব্যবসায়ীর তালিকা করুন যাঁদের এই কাজ লাগতে পারে; দুজনকে ভদ্র বার্তা পাঠান।
  6. দিন ৭: একটা ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল তৈরি করুন — ছবি, শিরোনাম, বিবরণ, পোর্টফোলিও লিংক।
🧠 Chapter quiz4 questions · pass 60%
🔒
Enjoying it? The rest of the book is waiting.
9 more chapters · ₹79
Get the full book
1 / 1